তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্ত্রী হানান এলাত সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হানান এলাত যুবরাজের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্পকে লেখা এক বার্তায় তিনি বলেন, “তার (সৌদি যুবরাজ) উচিত আমার সামনে এসে ক্ষমা চাওয়া এবং আমাকে যে ক্ষতির মুখে ফেলেছেন, তা পূরণ করা।”
সিএনএনকে তিনি আরও বলেন, “ওয়াশিংটনে তাকে দেখা আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারেন, কিন্তু প্রকৃত অর্থে শাসক নন। জামালের হত্যাকাণ্ড আমার পুরো জীবনটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সৌদি যুবরাজকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এএফপি-কে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, “এটি আমাকে খুব ব্যথিত করেছে এবং হতাশ করেছে।”
২০১৮ সালে ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে হত্যা করা হয় জামাল খাশোগিকে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন—এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল। খাশোগি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা ছিলেন এবং ওয়াশিংটন পোস্টে সৌদি সরকারের সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশ করতেন।
ট্রাম্পের পূর্বসূরি জো বাইডেনের প্রশাসন যে গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করে, তাতে বলা হয়েছিল—হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুবরাজ এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। এদিকে খাশোগি হত্যার পর যুবরাজের এটাই ছিল প্রথম হোয়াইট হাউস সফর।
হানান এলাত পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত মর্মাহত। তিনি বলেন, *“জামালের বিধবা হিসেবে আমি আমার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। যুবরাজ ২০১৯ সালে ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে স্পষ্ট বলেছিলেন, তিনি সৌদি আরবের কার্যত নেতা হিসেবে জামাল খাশোগির হত্যার সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছেন—বিশেষ করে যেহেতু এটি সৌদি সরকারের কর্মচারীদের দ্বারা সংঘটিত। তাই এ ঘটনার একটি ন্যায়সংগত মীমাংসা বা ক্ষতিপূরণ হবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে জবাবদিহির বাস্তব প্রতিফলন, যা এই অধ্যায়কে চিরতরে শেষ করতে পারে।”





